Kalkathon.com
Kalkathon.com
সংবাদটির পরিচ্ছন্ন প্রিন্ট সংস্করণ
জাতীয়

রেলের গতি বাড়াতে আসছে ৩০ ইঞ্জিন

প্রতিবেদক: Kalkathon.com প্রকাশ: Oct 5, 2026 প্রিন্ট: 09 Oct 2026, 12:06 PM
রেলের গতি বাড়াতে আসছে ৩০ ইঞ্জিন

নিরাপদ ভ্রমণের জন্য যাত্রীদের প্রথম পছন্দ ট্রেনযাত্রা। পণ্য পরিবহনেও ভরসার নাম রেলওয়ে। এসব কারণে রেলের গতি বাড়াতে এবং রেলসেবাকে আরও জনকল্যাণমুখী করতে নানান উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

এরই অংশ হিসেবে রেলওয়ের মিটারগেজ সেকশনে দ্রুত বর্ধনশীল পণ্য ও আন্তঃনগর যাত্রী পরিবহনের চাহিদা পূরণে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) সংগ্রহ করা হবে। প্রতিটির দাম পড়বে ৬৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৩০টি লোকোমোটিভ কিনতে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৭০ কোটি টাকা।

তবে এসব রেলইঞ্জিন কেনার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা কোম্পানির কথা উল্লেখ নেই। ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে এসব ইঞ্জিন কেনা হবে।

চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি বুধবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ প্রকল্পের আওতায় এগুলো কেনা হবে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) দেবে ১ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ রেলওয়ে জানায়, যাত্রী, পার্সেল এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে সড়কপথের তুলনায় রেলপথে অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ায় নিরাপদ ও দ্রুত আন্তঃনগর যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক উন্নতির ধারা বজায় রাখার লক্ষ্যে রেলখাতের উন্নয়ন অপরিহার্য। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মূলত আধুনিক ও উপযুক্ত মানের মিটারগেজ লোকোমোটিভ (রেলইঞ্জিন) সংগ্রহের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

মেকানিক্যাল কোড-ম্যানুয়েল অনুযায়ী, একটি লোকোমোটিভের অর্থনৈতিক আয়ু ২০ বছর। বাংলাদেশ রেলওয়েতে বর্তমানে ব্যবহৃত ১১৫টি মিটারগেজ লোকোমোটিভের অর্থনৈতিক আয়ু এরই মধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে। প্রস্তাবিত ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়ের মিটারগেজ সেকশনে দ্রুত বর্ধনশীল পণ্য ও আন্তঃনগর যাত্রী পরিবহনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।


বাংলাদেশ রেলওয়ে আরও জানায়, রেলওয়ে মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী ২০৪০ সালের মধ্যে মিটারগেজ লাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ডুয়েলগেজে রূপান্তরের কাজ বিলম্বিত হওয়ায় ২০৫৫-৬০ সাল পর্যন্ত মিটারগেজ ট্রেন পরিচালনা করতে হবে। এ প্রেক্ষাপটে ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য প্রস্তাবিত ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য

পুরোনো এবং জরাজীর্ণ লোকোমোটিভ প্রতিস্থাপনের জন্য নতুন ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ এবং প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রাংশ এবং সরঞ্জাম সংগ্রহ; উন্নত ট্রেন পরিষেবার জন্য আধুনিক, নিরাপদ লোকোমোটিভ সরবরাহ; বাংলাদেশ রেলওয়ের মিটারগেজ লোকোমোটিভের প্রাপ্যতা বৃদ্ধিকরণ; যাত্রী এবং পণ্য পরিবহন উভয় ক্ষেত্রে বর্ধিত ট্রাফিক চাহিদা পূরণ এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি অর্জন বা জ্ঞান স্থানান্তর করা।


প্রকল্প গ্রহণের যৌক্তিকতা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ে জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে মোট ২৯২টি লোকোমোটিভ রয়েছে (১৬৪টি মিটারগেজ এবং ১২৮টি ব্রডগেজ)। মেকানিক্যাল কোড-ম্যানুয়েল অনুযায়ী একটি লোকোমোটিভের অর্থনৈতিক আয়ু ২০ বছর। বাংলাদেশ রেলওয়েতে বর্তমানে ১১৫টি মিটারগেজ লোকোমোটিভের অর্থনৈতিক আয়ু এরই মধ্যে শেষ হয়েছে।

এছাড়া ৬২টি মিটারগেজ লোকোমোটিভের বয়স ৪০ বছরের ঊর্ধ্বে, যা এখনো ট্রেন চালনায় ব্যবহৃত হয়। এসব মেয়াদোত্তীর্ণ লোকোমোটিভের রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং নির্ভরযোগ্যতা কম।

প্রস্তাবিত ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়ের মিটারগেজ সেকশনে দ্রুত বর্ধনশীল পণ্য ও আন্তঃনগর যাত্রী পরিবহনের চাহিদা পূরণের মাধ্যমে ট্রেন পরিচালনার দক্ষতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়েতে চলাচলরত পুরোনো লোকোমোটিভের যন্ত্রাংশ সংগ্রহ কঠিন ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ফলে লোকোমোটিভগুলো দীর্ঘসময় ধরে অচল বা পরিষেবার বাইরে পড়ে থাকে। মিটারগেজ ট্রেন সময়ানুবর্তিতা ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনার জন্য পুরোনো মিটারগেজ লোকোমোটিভগুলো অবিলম্বে প্রতিস্থাপন করা জরুরি। অন্যথায় লোকোমোটিভের অভাবে বেশকিছু ট্রেন চলাচল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কালকথন ডট কম
Official print copy